শ্রেণি: রোগ ও প্রতিকার
বুকে জ্বালাপোড়া, পেট ফাঁপা বা খাওয়ার পর অস্বস্তি—গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভোগেননি এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দায়। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং ভাজাপোড়া খাবারের কারণে বাংলাদেশে এটি প্রায় ঘরে ঘরে একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সামান্য অ্যাসিডিটি হলেই কি ওষুধের দোকানে দৌড়ানো উচিত?
আজকের এই ব্লগে আমরা জানব গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কেন হয়, এর লক্ষণগুলো কী এবং কীভাবে ঘরোয়া উপায়ে ওষুধ ছাড়াই গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দেয়। এর পেছনে প্রধান কিছু কারণ হলো:
অনেকেই হার্টের ব্যথাকে গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা ভেবে ভুল করেন। তাই লক্ষণগুলো চিনে রাখা জরুরি:
হাতের কাছে থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েই গ্যাস্ট্রিকের তাৎক্ষণিক সমাধান করা সম্ভব।
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় আদা জাদুর মতো কাজ করে। আদার অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান পেটের জ্বালাপোড়া কমায়। এক টুকরো আদা চিবিয়ে খেতে পারেন অথবা আদা চা পান করলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।
এক গ্লাস পানিতে এক চামচ জিরা ফুটিয়ে সেই পানি ছেঁকে পান করুন। এটি হজমশক্তি বাড়াতে এবং পেটের গ্যাস বের করে দিতে দারুণ কার্যকরী।
সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে ২ গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করলে পাকস্থলী পরিষ্কার থাকে এবং অ্যাসিডিটি কমে।
অ্যাসিডিটির কারণে মুখে টক ভাব হলে ২-৩টি লবঙ্গ মুখে রেখে চুষে খান। এটি বমি ভাব দূর করতেও সাহায্য করে।
খাবারের পর এক কাপ টক দই হজমে সাহায্য করে এবং পেটের প্রশান্তি ফিরিয়ে আনে।
সাধারণত ঘরোয়া উপায়েই গ্যাস্ট্রিক সেরে যায়। তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:
উত্তর: গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা সাধারণত পেটের উপরিভাগে বা বুকের মাঝখানে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে এবং এন্টাসিড খেলে কমে যায়। হার্টের ব্যথা বুকে তীব্র চাপের মতো অনুভূত হয় এবং বাম হাতে বা ঘাড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
উত্তর: গর্ভাবস্থায় হরমোন পরিবর্তনের কারণে গ্যাস্ট্রিক হতে পারে। এ সময় একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া উচিত এবং প্রচুর পানি পান করা উচিত।
উত্তর: না, লেবু অম্লীয় হলেও পেটে গিয়ে এটি ক্ষারীয় প্রভাব ফেলে যা অ্যাসিডিটি কমাতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত অ্যাসিডিটি থাকলে কুসুম গরম পানিতে লেবু ও মধু মিশিয়ে খাওয়া ভালো।
সুস্থ থাকার জন্য ওষুধের চেয়ে নিয়ম মেনে চলা বেশি জরুরি। সময়মতো খাবার খাওয়া, প্রচুর পানি পান করা এবং বাইরের ভাজাপোড়া এড়িয়ে চললে আপনি সহজেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে দূরে থাকতে পারবেন।
স্বাস্থ্য ভালো রাখার মূল চাবিকাঠি হলো নিয়মিত অভ্যাস।
সুষম খাদ্য, ব্যায়াম, মানসিক প্রশান্তি এবং আত্মযত্ন — এই চারটি বিষয় মানলে আপনি থাকবেন প্রাণবন্ত ও সুস্থ।
আজ থেকেই শুরু করুন নিজের যত্ন নেওয়া, কারণ সুস্থ শরীরই সুখী জীবনের ভিত্তি।